শব্দের শ্রেণিবিভাগ বা সংবর্গ (৩.৩)

ক. ব্যাকরণ - রূপতত্ত্ব - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

1.3k

শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যে ব্যবহৃত শব্দ বা পদকে সাধারণত আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো যথাক্রমে বিশেষ্য, সর্বনাম, ক্রিয়াবিশেষণ অব্যয়, ক্রিয়া বিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক ও আবেগ। নিচে এগুলা আলোচনাচনা করা হলা

১) বিশেষ্য: যে-শব্দের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নামকে বোঝায় তা-ই বিশেষ্য। যেমন- মানুষ, বাঙালি, রাস্তা, উৎসব ইত্যাদি।
২) সর্বনাম: বিশেষ্যের পরিবর্তে যা ব্যবহৃত হয় তা-ই সর্বনাম। যেমন-
অনন্যা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।
সে দুই কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে আসে।
তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু পান্না।
তারা শিক্ষা সফরে গিয়েছিল।
উদাহরণে অনন্যার পরিবর্তে 'সে', 'তার' ও 'তারা' ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলা ভাষায় এজাতীয় সর্বনাম আরও রয়েছে। যেমন- আমি, আমরা, আমার, আমাদের, তুমি, তোমার, তোমাকে, আপনি, আপনার, আপনাকে, তুই, তোর, তোকে, তার, তাকে, তিনি, তাঁর, তাঁকে ইত্যাদি।
৩) বিশেষণ: যে-শব্দের মাধ্যমে বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় তাকে বলে বিশেষণ। যেমন- বিশাল দিঘি; উঁচু বাঁধানো পুকুর; হরেক রকম পাছপালা, ঘন ঝোপ-জঙ্গলে আচ্ছন্ন পরিবেশ; পাথর-বাঁধানো ঘাট।

৪) ক্রিয়া: যে শব্দের দ্বারা কোনো কাজ করাকে বোঝায়, তাকে ক্রিয়া বলে। যেমন-
লিটন বই পড়ে।
সাকিব বল খেলেছিল।
কণা রবীন্দ্রসংগীত শোনাবে।

উপরের বাক্য তিনটিতে 'পড়ে', 'খেলেছিল', 'শোনাবে'- এ- তিনটি শব্দ কোনো-না-কোনো কাজ করাকে বোঝায়। ক্রিয়া প্রধানত দু প্রকার- (ক) সমাপিকা ক্রিয়া ও (খ) অসমাপিকা ক্রিয়া।

ক) সমাপিকা ক্রিয়া: যে-ক্রিয়া বাক্যের বা বক্তার মনোভাবের পূর্ণতা ও পরিসমাপ্তি প্রকাশ করে, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন- সে গান গাইবে; তুমি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলে; আমি বই পড়েছি
খ) অসমাপিকা ক্রিয়া: যে-ক্রিয়া দ্বারা কাজের বা অর্থের অপূর্ণতা বা অসমাপ্তি বোঝায় তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন- আমার যাওয়া হবে না; আমি ভাত খেয়ে বাজারে যাব; আমাকে আমার মতো চলতে দাও।
৫) ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন:
ছেলেটি ভালো খেলে।
মেয়েটি দ্রুত হাটে।
লোকটি শান্তভাবে কাজ করে।

৬) অনুসর্গ: যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
৭) যোজক: পদ ও বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন: এবং, ও, আর, কিন্তু, তবু ইত্যাদি।
৮) আবেগ: যেসব শব্দ দিয়ে মনের বিচিত্র আবেগ বা অনুভূতিকে প্রকাশ করা হয়, সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলে। যেমন: বাহ্, বেশ, শাবাস, ছি ছি ইত্যদি।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...